শুক্রবার দিনের নফল নামায ও উহার ফযীলত

  • ইসলামজুমা ও ঈদের নামায
  • 1 month ago
  • 457 Views
  • ১. এ দিন সূর্য যখন তীর পরিমাণ বা তদূর্ধ্বে উঠে, তখন যে ব্যক্তি পূর্ণভাবে অজু করে যে কোন সূরা দ্বারা ১২ রাকাত নামায আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে ১২০০ দরজা হবে।

    ২. হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, শুক্রবার সারা দিনই নফল ইবাদত করা যায়। ঐ দিন সূর্য উদয়ের পর উত্তমরূপে অজু করে যে ব্যক্তি পূর্ন বিশ্বাসের সাথে দ’রাকাত ‘যোহর’ নামায আদায় করবে, করুণাময় আল্লাহ্ তায়ালা তাকে ২০০ পূণ্য দান করবেন আর ২০০ গুনাহ্ মাফ করবেনন। আর ৪ রাকাত নামায পড়লে জান্নাতে তার জন্য ৪০০ শত দরজা বলন্দ করে দেবেন। ৮ রাকাত নামায পড়লে জান্নাতে তার জন্য ৮০০ শত দরজা বলন্দ করে দেবেন এবং তার যাবতীয় পাপ মোচন করে দেবেন। আর ১২ (বারো) রাকাত নামায আদায়কারীকে ২,২০০ (দু’হাজার দু’শত) নেকী দান করবেন এবং ঐ পরিমাণ গুনাহ্ মার্জনা করে দেবেন এবং ২,২০০ দরজা বলন্দ করে দেবেন।

    ৩. হাদীসে শরীফে আরও বর্ণিত আছে: যে ব্যক্তি জুম্মার দিনে জামে মসজিদে গিয়ে জুম্মার নামাযের পর ৪ রাকাত নফল নামাযের প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতেহা ৫০ বার ও সূরা এখলাছ ৫০ বার পড়ে, জান্নাতে তার স্থান না দেখা পর্যন্ত তার মৃত্যু হবে না।

    ৪. অন্য এক হাদীস শরীফে আছে: যদি কোন ব্যক্তি শুক্রবার দিন ফযরের নামায জামাতের সাথে আদায় করার পর সূর্য উদয় না হওয়া পর্যন্ত মসজিদে বসে যিকির আজকার করে, তবে তার জন্য আল্লাহ্ তাআলা বেহেশতে ৭০টি দরজা বলন্দ করে দেবেন।। যার দু’ দরজার মধ্যবর্তী দূরত্ব এত প্রশস্ত হবে যে, একটি দ্রুতগামী ঘোড়া ৭০ বৎসর পর্যন্ত দৌঁড়াতে থাকলেও তা শেষ হবে না।

    ৫. অন্য এক বর্ণনায় আছে, যে ব্যক্তি জুম্মার দিনে আসরের নামায জামাতের সাথে আদায় করল, সে যেন হযরত ইসমাইল (আঃ)-এর বংশজাত ৮ জন গোলামকে আযাদ করল।

    ৬. হাদীস শরীফে আরও বর্ণিত আছে, যদি কোন ব্যক্তি জুম্মার দিন যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে দু’রাকাত নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহা একবার, আয়াতুল কুরসী একবার, সূরা ফালাক্ব ৫০ (পঞ্চাশ) বার এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহা একবার, সূরা এখলাছ একবার, সূরা ফালাক্ব ২০ বার এবং নামাযান্তে ৫০ বার (লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ) পড়ে, তাহলে মৃত্যুর পূর্বেই আল্লাহ্ তায়ালার দর্শন লাভে ভাগ্যবান হবে এবং বেহেশতে স্বীয় স্থান দর্শনে কৃতার্থ হবে।

    ৭. হাদীস শরীফে বর্নিত আছে, এ দিনে সূর্যোদয়ের কিছুক্ষণ পরে এশরাক নামাযের বাদে ২ রাকাত নামায “সালতুল এ’রাবী” এর নিয়তে পাঠ করবে। “সালতুল এ’রাবী” নামাযের তাৎপর্য এই যে, একদিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীগণের উপস্থিতিতে এরশাদ করলেন: “যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে জুম্মার নামায ত্যাগ করল, সে কাফেরের দরজায় পৌঁছে গেল।” সে মজলিসে একজন গ্রাম্য আরবি ছিল। সে দাঁড়িয়ে নবীয়ে পাক (সাঃ)-এর নিকট আরজ করল, “ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমরা এমন জায়গায় বাস করি, যেখান থেকে প্রতি জুম্মায় মসজিদে হাজির হওয়া সম্ভব নয়।” নবীয় পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরমালেন, “যে কেউ তোমাদের মত অবস্থায় শুক্রবার বাদে ২ রাকাত নফল নামায আদায় করে, যারা প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহার বাদে সূরা “ফালাক্ব” একবার ও দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহার বাদে সূরা “নাস” একবার করে পড়বে, তার জিম্মায় জুম্মার নামায থাকবে না এবং (এ অবস্থায়) সে জুম্মার নামায আদায়ের সওয়াবের অধিকারী হবে।

    তবে, হ্যাঁ। যদি নিকটবর্তী কোন মসজিদে জুম্মার সনামাযে হাজির হওয়ার সুযোগ থাকে তবে অবশ্যই হাজির হবে, নচেৎ গুনাহ্গার হবে। নবীয়ে পাক (সাঃ) এ নামাযটি উক্ত আরবিকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন বলে এ ২ রাকাত নামাযকে “সালাতুল এ’রাবী” বলে।

    ৮. অতঃপর দু’দু’ রাকাত করে ৪ সালামে আরও ৮ রাকাত নামায ‘সালাতিল উসবুয়িল আইয়্যামে’ এর নিয়তে পড়বে। এ নামায জুম্মার নামাযের পরে পড়বে। এর প্রতি রাকাতে সূরা ফাতেহার বাদে সূরা নাসর (ইযা জা আ) একবার এবং সূরা এখলাছ ২৫ বার পাঠ করে নামাযান্তে সালাম ফিরিয়ে এ দোয়াটি ৭০ বাড় পড়বেঃ

    “লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম।”

    ইনশাআল্লাহ এ নামাজের বদৌলতে নামাযীর যাবতীয় নেক বাসনা আল্লাহ্ তাআলা পূরণ করবেন। তদুপরি তার যাবতীয় গুনাহ্ খাতাও মাফ করে দেবেন।

    হযরত বায়োজিদ বোস্তামী (রহঃ) নামাযের ফযীলত সম্বন্ধে বলেছেনঃ যে ব্যক্তি যথারীতি “সালাতুল উসবুয়িল আইয়্যাম” পাঠ করবে সে ইনশাআল্লাহ্ স্বপ্নযোগে নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দর্শন মুবারক লাভ করবে।

    সুতরাং প্রত্যেক নবী প্রেমিক মো’মীন-মো’মীনাতের উচিৎ এ নামায ভক্তি, শ্রদ্ধা, গভীর বিশ্বাস ও এহতেসামের সহিত আদায় করে আখেরাতের মুক্তির পথ নিশ্চিত করে লওয়া।

    গাউছুল আযম হযরত আব্দুর কাদের জিলানী (রহঃ) “সালাতিল উসবুয়িল আইয়্যাম” সম্বন্ধে বলেন নবীয়ে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইয়ি ওয়া সাল্লাম মুহিউদ্দিন আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ)-কে জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি বিশ্বাস ও ভক্তি সহকারে “সালাতিল উসবুয়িল আইয়্যাম” পাঠ করবে, তার বেহেশতে প্রবেশের জিম্মাদার খোদ নবীয়ে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইয়ি ওয়া সাল্লাম। তিনি তাকে সুপারিশ করে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

    তাই দেখা যায় যে, কাদেরিয়া, নকশে বন্দিয়া চিস্তিয়া ও মোজাদ্দেদিয়া তরীকার পীর মাশায়েখগণ “সালাতিল উসবুয়িল আইয়্যাম” যত্ন সহকারে আদায় করতেন। সোহরাওয়ারদীয়া তরীকার বুজুর্গানে দ্বীনেরও আমল অনুরূপ ছিল।

    মোটকথা, সব তরীকাপন্থী লোকেরা এবং অন্যান্য সাধারণ লোকেরাও এ নামায পড়ে পরকালের মুক্তির পথ নিশ্চিত করে থাকেন।

    ৯। হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে: যে ব্যক্তি জুম্মার দিন নিম্নলিখিত দরূদে পাক ১০০ (একশত) বার পড়বে তার ৮০ বছরের গুণাহ মাফ হয়ে যাবে। “আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া নাবিয়্যিকা ওয়া রাসূলিকান নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি। (সেরাজুসসালেকীন, গুণিয়াতুত্তালেবীন)

    Related Posts

    অ্যাকাউন্ট প্যানেল

    আমাকে মনে রাখুন