যখন জ্বিনেরা প্রথম কুরআন শুনলো

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম এর সাথে জ্বিন জাতির প্রথম যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছিল যখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তায়েফে গিয়েছিলেন তিনি তায়েফে গিয়েছিলেন কারণ, সেই সময় মক্কার অধিবাসীরা তাঁর সাথে অত্যন্ত কঠোর আচরণ করছিল – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আহ্বানকে তাচ্ছিল্যভরে প্রত্যাখান করেছিলো তাই তার চা্চা আবু তালিব এবং তাঁর স্ত্রী উম্মুল মুমিনীন খাদিজা রাঃ এর ইন্তেকালের পর – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী পৌছিয়ে দিতে তায়েফ যান কিন্তু তিনি তায়েফবাসী দ্বারাও প্রত্যাখ্যাত হলেন – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু তাই নয়, তায়েফবাসী তাদের ক্রীতদাস এবং ছেলে ছোকড়াদের তার পেছনে লেলিয়ে দিয়েছিল তারা তাকে ধাওয়া করতে লাগল এবং পাথর নিক্ষেপ করতে লাগল – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ঐ দুঃখ, গ্লানি, বেদনা লাঘব করার ইচ্ছে করলেন যা আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুভব করছিলেন তায়েফ থেকে মক্কায় ফেরার পথে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক জায়গায় বিরতি নিলেন এবং এরপর সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং জ্বিনদের একটি দল এসে উপস্থিত হল সালাত আদায় করার সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্বুরআন তিলাওয়াত করছিলেন এবং আল্লাহ তায়ালা আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন এরপর কি ঘটেছিল আল্লাহ সুবহানাহ ওয়া তাআলা বলেছেন – আমি তোমার দিকে পাঠিয়েছিলাম জ্বিনদের একটি দলকে যারা কুরআন শুনেছিল সুবহানাল্লাহ ! জ্বিনদের এই দলটি সেসময় সেখানে কি করছিল? শয়তান জ্বিনদের আদেশ দিয়েছিল কি ঘটছে তার খবরাখবর নেওয়ার জন্য কারণ সেই সময়, জ্বিনেরা উর্ধ্বাকাশ থেকে কোন গোপন খবর সংগ্রহ করতে পারছিলো না, সেজন্যই শয়তান জ্বিনদের বললো – নিশ্চয় পৃথিবীর বুকে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু একটা ঘটছে যার কারনে এমন হচ্ছে যে কারণে আমরা উর্ধাকাশ থেকে আর কিছু শুনতে পারছি না ফেরেশতারা কি নিয়ে কথা বলছে, আমরা শুনতে পারছি না তাদের প্রতি উল্কা নিক্ষেপ করা হচ্ছিলো.. যখনই তারা ফেরেশতাদের কথোপকথন থেকে কোন গোপন সংবাদ সংগ্রহ করতে উদ্যত হচ্ছিল, তখনই তাদের প্রতি উল্কা নিক্ষেপ করা হচ্ছিলো, আসমান থেকে গোপন সংবাদ সংগ্রহের রাস্তা তাদের জন্য চিরতরে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল তাই শয়তান জ্বিনদের বলল: যাও এবং খুঁজে বের করো ঘটনা কি? নিশ্চয় গুরুতর কিছু ঘটছে ফেরেশতাদের কথোপকথন শোনার জন্য জ্বিনেরা সাধারণত উর্ধ্বাকাশে বিচরণ করে বেড়াত কিন্তু রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহ আলাইহি সাল্লাম আগমনের পর তাদের উর্ধ্বাকাশে বিচরণ বন্ধ হয়ে যায় রাসূলুল্লাহর সাল্লাম আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবির্ভাবের পূর্বে যা হতো তা হল: জ্বিনেরা সাধারণত কথোপকথনে আড়ি পাততো এরপর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত বাণী নিয়ে আবির্ভূত হলেন, তখন জ্বিনেরা তাদের এই কাজে বাঁধাপ্রাপ্ত হল এবং তারা যা শুনতে পেত তা আর শুনতে সক্ষম হচ্ছিলোনা তাই জ্বিনদের এই দলটি আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছিল আর তারা রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআন তিলাওয়াত শুনতে পেল বুখারী শরীফে হযরত আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রা: থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে : কারণ আব্দুল্লহ ইবনে মাসউদ রা: এ ঘটনা সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে ছিলেন হঠাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছুদূর সামনে এগিয়ে গেলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ তখন বসে ছিলেন, তিনি বলছেন তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে দেখতে পাচ্ছিলেন তিনি দেখলেন কিছু ভিন্ন প্রজাতির জীব মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চারপাশে ভিড় করছে তাদের জটলা এতো ঘন হয়ে গেল যে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ বলছেন তিনি হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে আর দেখতে পাচ্ছিলেন না তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি অবস্থায় আছেন তা দেখার জন্য আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা: সামনের দিকে আগালেন কিন্তু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ইশারায় আর সামনে না আসতে বললেন যারা এসেছিল তারা জ্বিন, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন করতে এসেছিলে এবং তারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল এটাই ছিল জ্বিনদের সাথে প্রথম যোগাযোগের ঘটনা এবং এই জ্বিনরা এসেছিল নুসাইবিন নামক শহর থেকে নুসাইবিন সিরিয়ার একটি শহরের নাম কুরাআন শোনার পর তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ছুটে গেল তারা উদগ্রীব ভাবে তাদের কাছে গেল এবং তাদেরকে কুরাআনুল কারীমের কথা জানান তারা তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে গেল তাদের সম্প্রদায় কারা? জ্বিনরা তারা বললো, হে আমাদের সম্প্রদায় ! হে আমাদের সম্প্রদায় ! আমরা এক কিতাব পাঠ প্রবণ করেছি যা অবতীর্ণ হয়েছে মূসার পরে ( কারণ তারা মুসা আলাইহিস সালাম এর নবুওয়্যাতে বিশ্বাসী ছিল ) সুবহানাল্লাহিল আযীম ! কি অপূর্ব এই কুরাআন ! আমরা এতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। খেয়াল করুন, যারা বলে আল্লাহর সন্তান গ্রহন করছেন তাদের সম্বন্ধে তারা কি বলেছিল যে এই কথা বলে সে নিরেট মুর্খ দেখুন যারা আল্লাহর সন্তান আছে বলে দাবী করত তাদের প্রতি জ্বিনদের কি প্রতিক্রিয়া ছিল মূর্খ ! আহাম্মক ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সময় কিছু জ্বিন ঈসা আ: এর উপর বিশ্বাসী ছিল আবার কেউ মুসা এবং ইবরাহিম এর উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছিল – আলাহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম ঠিক যেমনি ভাবে সেই সময়ের কিছু মানুষ ইহুদী, খ্রিস্টান ইত্যাদি ছিল যা ঘটেছিল তার ব্যাপারে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদেরকে অবহিত করছেন তারা ছিল কতিপয় জ্বিন যারা তোমার কথা বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং তোমার দাওয়াত গ্রহন করেছিল আর এজন্যই হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – কে প্রেরণ করা হয়েছে সমগ্র জ্বিন ও মানবজাতির জন্য সুবহানাল্লহ ! এই কিতাব ( কুরআন ) সত্যয়ণ করছে এটা সত্যয়ণ করছে সেই একি উৎস থেকে প্রেরিত বাণী যা মুসা আ: এর উপর অবতীর্ণ হয়েছিল, সুবহানাল্লাহিল আযীম সবগুলো বাণীই প্রেরিত হয়েছিল সঠিক উৎস থেকে, আল্লাহর কাছ থেকে এই জন্যেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইরশাদ করছেন : সুতরাং অভিসম্পাত তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে তারপর বলে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে, যাতে তা তুচ্ছ মূল্য বিক্রিকরতে পারে আমাদের সমাজে আজকাল কত লোকের কথা শোনা যায় যারা স্বরচিত কোন কিছুকে আল্লাহ প্রেরিত বলে দাবী করে আজ বাজারে কতোগুলো ভিন্ন ভিন্ন বাইবেল পাওয়া যায়? কত রকমের সংস্করণ পাওয়া যায়? কিন্তু, কুরআন একটাই দুরপ্রাচ্য, দুরপশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ…যেখানেই হোক না কেন পৃথিবীর সর্বত্রই একটাই কুরআন আল্লাহ সুবহানাহ ওয়া তায়ালা কুরআনকে সংরক্ষণ করেছেন আর সেই জ্বিনেরা যখন প্রথম মহিমান্বিত এই কুরআন শুনেছিল যখন তারা রাসূলুল্লাহর সাল্লাম আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিলাওয়াত শুনেছিল তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছিয়ে দিয়েছিল তারা বলেছিল : এই কুরাআন সত্যর দিকে আহবান করে।।

By Anonto Rajan

রবের প্রতি বিশ্বাস সবসময়...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *