শিরোনাম

মৃত ব্যক্তির সম্মানে বিশ্বনবির অতুলনীয় আদর্শ

কুরআনুল কারিমে সুরা আবাসায় মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘অতপর তিনি তার (মানুষের) মৃত্যু ঘটান ও কবরস্থ করেন তাকে।’ (আয়াত ২১) বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী, মুসলমান-অমুসলমান সবার শেষ ঠাঁই আল্লাহর সৃষ্ট এ মাটিতেই হয়। সব ধর্মীয় মতবিরোধ সত্ত্বেও আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জগতসমূহের একমাত্র প্রতিপালক হিসাবে সবাইকে সমানভাবে লালন-পালন করে থাকেন।

বিশ্বাসের বিরোধ থাকা সত্ত্বেও সবাইকে একই মেঘের পানি দিয়ে তিনি সিঞ্চিত করেন। সবাইকে তার সৃষ্ট সূর্য নিজের রোদ-তাপ সমান তালে দিয়ে থাকেন। একই মাঠে কাদামাটিতে সবাই চাষাবাদ করে সমানভাবে উপকৃত হয়। মহান আল্লাহর দয়া ও কৃপার এই সার্বজনিনতা মানুষকে, বিশেষ করে মুসলমানদের এ শিক্ষা দিচ্ছে যে, আমরাও যেন আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হয়ে সবার জন্য উদারতা প্রদর্শন করি।

বিশ্বনবি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব মানুষকে সম্মান দিয়েছেন। ইসলামের ঘোরতর শত্রু ও কাফেরের লাশকেও তিনি সম্মান প্রদর্শন করেছেন এবং তার উম্মতকেও তা করার নির্দেশ দিয়ে গেছেন। হাদিসে এসেছে-

একবার হজরত সাহল ইবনে হুনাইফ ও কায়স ইবনে সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা কাদ্সিয়াতে বসা ছিলেন, তখন লোকেরা তাদের সামনে দিয়ে একটি জানাজা নিয়ে যাচ্ছিল। তা দেখে তারা দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাদের বলা হল, এটা এ দেশীয় অমুসলিম জিম্মী ব্যক্তির জানাযা। তখন তারা (দুই সাহাবি রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, ‘একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে দিয়েও একটি জানাজা যাচ্ছিল। তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলে তাকে বলা হয়েছিল, এটা তো এক ইহুদির জানাজা। প্রিয় নবি ইরশাদ করেছিলেন- সে কি একজন মানুষ নয়?’ (বুখারি)

তাই সাধারণ কোনো লাশ বা কোনো নিষ্পাপ শিশুর লাশ তো দূরের কথা, ঘোরতর শত্রু কাফের ইয়াহুদির লাশের প্রতিও আমাদের প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্মান প্রদর্শন করেছেন। শুধু তা-ই নয় তার দীক্ষায় দীক্ষিত নক্ষত্রতুল্য সাহাবারাও একই আচরণ করে দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন।

এছাড়া মৃত শিশুর বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষা হল- তারা জান্নাতি আর প্রত্যেক নবজাতক ইসলামি ফিতরতে জন্মগ্রহণ করে। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘প্রত্যেক শিশুই স্বভাবধর্মে (ইসলামে) জন্মগ্রহণ করে।’ (তিরমিজি)

– হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক নবজাতক ফিতরতের ওপর জন্মগ্রহণ করে। এরপর তার মাতাপিতা তাকে ইয়াহুদি বা খ্রিস্টান অথবা অগ্নি-উপাসকরূপে রূপান্তরিত করে।’ (বুখারি)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত ব্যক্তির শুধু সম্মান প্রদর্শনই করেন নি বরং মৃতদের গালমন্দ, লাশের অসম্মান, তাদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করাকে গোনাহর কাজ বলে উল্লেখ করেছেন। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তোমরা মৃতদের গালমন্দ কোরো না, তারা যা করেছে তারা তা পেয়েছে।’ (বুখারি)

শ্রেষ্ঠনবির উম্মত হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব শ্রেষ্ঠনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অতুলনীয় জীবনাদর্শ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনা করা। একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের দ্বারা এমন কোনো কাজ যেন সংঘঠিত না হয় যার ফলে ইসলাম এবং বিশ্বননবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বদনাম হবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সঠিক ইসলামের শিক্ষার আলোকে জীবন গড়ার এবং ইসলামি জিন্দেগী যাপন করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Alert! This website content is protected!