একজন বিখ্যাত বাদশা ছিলেন যার ঐশ্বর্য ছিল আকাশ সমান। তিনি শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তার পুরো পরিবারকে ডেকে আনলেন এবং বললেন তোমরা যখন বুঝতে পারবে যে, আমার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে তখন আমাকে আমার মহলের বাইরে একা রেখে আসবে।

কিছুদিন পর বাদশার এ সময় এসে এলো অর্থাৎ তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো। পিতার কথা অনুযায়ী তার ছেলেরা তাকে মহলের বাইরে রেখে আসলো।

বাদশা যখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল ঠিক তখন তার সামনে একজন ফকির আসলো এবং বাদশাকে বললো, তোমার কাছে যা আছে তা আমাকে দান করে দাও। তাহলে তোমার মঙ্গল হবে। ফকিরের সেই কথা শুনে বাদশা বলল আমার কাছে কিছুই নেই আপনাকে দেওয়ার মতো।

ফকির আবার বাদশা কে বললো, তোমার কাছে যা আছে তার থেকে কিছু আমাকে দান করো। বাদশা বললো, আমার কাছে কিছুই নেই। আমি আমার শেষ সময় পার করে এসেছি এবং আমি আমার ছেলেদের বলেছিলাম যে, আমার মৃত্যুর শেষ সময়ে আমাকে মহলের বাইরে রেখে আসতে, এবং কথামত তারা আমাকে বাইরে রেখে দিয়েছে। তাই এই মুহুর্তে মহলের ভিতরে গিয়ে, আপনার জন্য কিছু নিয়ে এসে আপনাকে দান করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। বাদশার সেই কথা শুনে ফকির আবারো বলল, তোমার কাছে যা আছে তাই আমাকে দান করে দেও‌।

বাদশা তখন তার শেষ মুহূর্তে ছিল। তাই সে উপায় না বুঝে তার সামনে পড়ে থাকা একটি বাদামের খোসা ফকিরের হাতে তুলে দিল। ফকির খুশি হয়ে বাদামের খোসা নিয়ে সেখান থেকে চলে গেল এবং তার দানের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানালো।

কিছুক্ষন পর বাদশাহ মৃত্যুবরণ করলো এবং গোটা শহরে বাদশার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পরলো। হাজার হাজার মানুষ বাদশাকে শেষ বিদায় দেওয়ার জন্য জানাযায় সামিল হলো এবং জানাজা শেষে তাকে কবর দেয়া হলো।

ওই দিন রাত্রে বাদশার ছেলেকে স্বপ্নে দেখানো হলো যে, তার বাবা একটি ঘরে বসে আছে এবং সেই ঘরের দিকে একটি কালো বড় সাপ ছুটে যাচ্ছে। সাপটি যখন তার বাবাকে ছোবল মারার জন্য এগিয়ে যাচ্ছে তখন সাপের মুখে একটি বাদামের খোসা আটকে যাচ্ছে।

একটু পর যখন সাপটি বাদামের খোসার টিকে অনেক কষ্ট করে মুখ থেকে ছাড়িয়ে নিলো এবং অপর দিকে গিয়ে আবার তার বাবাকে কামড়ানোর চেষ্টা করলো, তখন আবারো সাপের মুখে বাদামের খোসা আটকে গেল। বারবার ব্যর্থ হয়ে সাপটি ছোবল না দিতে পেরে সেখান থেকে চলে গেল। এরপর বাদশাহ তার ছেলেকে বললো, আমার অর্জনকৃত সকল ধনসম্পত্তি গরীবের মাঝে বিলিয়ে দাও। বাবার হুকুম মতো ছেলে সব ধন-সম্পত্তির বিলিয়ে দিলেন।

বন্ধুরা, কবরে আমরা পৃথিবীর ঐশ্বর্য টাকা-পয়সা নিয়ে যেতে পারবো না, শুধুমাত্র নিয়ে যেতে পারবো এক টুকরা কাফনের কাপড় আর আমাদের পৃথিবীতে করা আমলগুলো। বাদশার এত ধন-সম্পদ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র কাজে আসলো তার দান করা একটি বাদামের খোসা।

তো বন্ধুরা, আজকের এই ভিডিওটি থেকে আমাদের শিক্ষানীয় বিষয় হচ্ছে, সব সময় আল্লাহর এবাদত করা এবং আল্লাহর পথে যতুটুকু পারবে ততটুকু দান করা, কেননা এই দানের জন্য আপনিও বাদশার মত কবরের গোর আজাব থেকে মুক্তি পেতে পারেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে হালাল পথে দান করার তৌফিক দান করুন_ আমীন সুম্মা আমীন।

By Anonto Rajan

রবের প্রতি বিশ্বাস সবসময়...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *