দাজ্জাল সম্পর্কে কিছু জানা-অজানা তথ্য
দাজ্জাল হবে নব-যুবক, দাজ্জালের মাথার চুল হবে খুব বেশি কোঁচকানো, দাজ্জালের একটি চোখ আঙুরের মত ফোলা থাকবে, দাজ্জাল” আব্দুল উযযা ইবনে ক্বাত্বানের মত দেখতে হবে, দাজ্জালের সামনে সূরা কাহাফ এর শুরুর দশ আয়াত পড়তে হবে, দাজ্জাল শাম ও ইরাকের মধ্যবর্তী স্থানে আবির্ভূত হবে, দাজ্জাল তার ডানে-বামে (এদিকে ওদিকে) ফিৎনা ছড়াবে, দাজ্জাল পৃথিবীতে ৪০ দিন অবস্থান করবে, আর সেই ৪০ দিনের একটি দিন এক বছরের সমান দীর্ঘ হবে, একটি দিন হবে এক মাসের সমান লম্বা, একটি দিন এক সপ্তাহের সমান হবে এবং বাকি দিনগুলো আমাদের দিনগুলোর সম পরিমান হবে..তখন আমাদের একদিনে ৫ ওয়াক্ত নামাজই থাকবে শুধু অনুমান করে (দিন রাতের ২৪ ঘন্টা হিসাবে) নামাজ পড়তে হবে! পৃথিবীতে দাজ্জালের গতি হবে তীব্র বায়ু তারিত মেঘের ন্যায়… দাজ্জাল দ্রুত বেগে ভ্রমণ করে অশান্তি ও বিপর্যয় ছড়াবে, দাজ্জাল কিছু লোকের নিকট আসবে ও তাদেরকে তার দিকে আহ্বান করবে এবং তারা তার প্রতি ঈমান আনবে ও তার আদেশ পালন করবে… দাজ্জাল আকাশকে বৃষ্টি বর্ষণ করতে বলবে, আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে। আর জমীনকে গাছপালা উদ্গত করতে বলবে, যমীন তার আদেশে তাই করবে। তারপর দাজ্জাল অন্য লোকের নিকট যাবে ও তার দিকে আসার জন্য তাদেরকে আহ্বান করবে। কিন্তু তারা তার ডাকে সারা দেবেনা। ফলে সে তাদের নিকট থেকে ফিরে যাবে। সে সময় তারা চরম দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত হবে,সর্বস্বান্ত হবে… দাজ্জাল প্রাচীন ধ্বংস স্তুপের নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় সেটাকে সম্বোধন করে বলবে, তুই তোর গচ্ছিত রত্নভান্ডার বের করে দে। তখন সেখানকার গুপ্ত রত্নভান্ডার’ মৌমাছিদের নিজ রানী মৌমাছির অনূসরণ করার মত মাটি থেকে বেড়িয়ে তার পিছন ধরবে। দাজ্জাল এক পূর্ণ যুবককে ডেকে তাকে অস্ত্রাঘাতে দ্বিখন্ডিত করে তীর নিক্ষেপের লক্ষমাত্রার দুরত্বে নিক্ষেপ করে দেবে। তারপর তাকে ডাক দেবে, আর সে অক্ষত শরীরে এগিয়ে আসবে। দাজ্জাল এরুপ কর্মকান্ডে মগ্ন থাকবে। ইত্যবসরে মহান আল্লাহ্ মসীহ বিন মারইয়্যাম (ঈসা আঃ) কে পৃথিবীতে পাঠাবেন। ঈসা (আঃ) দামেস্কের পূর্বে অবস্থিত শ্বেত মিনারের উপর অবতরণ করবেন। ঈসা (আঃ) অর্স ও জাফরান মিশ্রিত রঙের দুই বস্ত্র পরে আসবেন। ঈসা (আঃ) দুজন ফিরিশতার ডানাতে হাত রেখে অবতরণ করবেন। যে কাফেরই ঈসা (আঃ) এর শ্বাস প্রশ্বাসের নাগালে আসবে সে সঙ্গে সঙ্গে মারা যাবে! ঈসা (আঃ) এর শ্বাস প্রশ্বাস’ তাঁর দৃষ্টি যতদূর যাবে ততদূর পৌঁছাবে! শেষ পর্যন্ত জেরুজালেমের ‘লুদ’ প্রবেশদ্বারে দাজ্জালকে ধরে ফেলবেন এবং অনতিবিলম্বে হত্যা করে দেবেন। দাজ্জালের মৃত্যুর পরে আসবে ইয়্যাজুজ মাজুজ। মহান আল্লাহ্ তখন ঈসা (আঃ) এর কাছে ওহী পাঠাবেন যে, আমি আমার কিছু বান্দার আবির্ভাব ঘটিয়েছি, তাদের বিরুদ্ধে লড়ার ক্ষমতা কারো নেই। সুতরাং তুমি আমার প্রিয় বান্দাদের নিয়ে তূর পর্বতে আশ্রয় নাও। ইয়্যাজুজ মাজুজ” প্রত্যেক উচ্চ স্থান হতে দ্রুত বেগে ছুটে যাবে। ঈসা (আঃ) ও তার সঙ্গীরা দু’আ করবেন, ফলে আল্লাহ ইয়্যাজুজ মাজুজদের ঘারে এক প্রকার সৃষ্টি করে দেবেন। যার ফলে একসঙ্গে সবাই মারা যাবে। সেই অঞ্চল তাদের মৃতদেহ ও দুর্গন্ধে ভরে থাকবে; এক বিঘত জায়গাও খালি থাকবেনা।ফলে ঈসা (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীরা দু’আ করবেন, ফলে আল্লাহ্’ বুখতী উটের ঘারের ন্যায় একপ্রকার বিশাল পাখি পাঠাবেন। তারা লাশগুলোকে তুলে নিয়ে আল্লাহ যেখানে চাইবেন সেখানে ফেলবেন। তারপর যমীন আবার ফল শস্য উৎপন্ন করবে৷ অনেক বরকত হবে। লোকেরা ডালিম খেয়ে সেই ডালিমের খোসার নিচে আশ্রয় নেবে! একটি দুগ্ধবতী উটনী একটি সম্প্রদায়ের জন্য যথেষ্ট হবে, একটি গাভী একটি গোত্রের জন্য আর আর একটি দুগ্ধবতী ছাগী কয়েকটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট হবে। এমন সময় আল্লাহ এক প্রকার পবিত্র বাতাস পাঠাবেন, যা তাদের বগলের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে৷ ফলে মুসলিম নর-নারী মারা যাবে। তারপর শুধুমাত্র অসৎলোকজন বেঁচে থাকবে, যারা পৃথিবীতে গাধার মত প্রকাশ্যে লোকচক্ষুর সামনে ব্যভিচার করবে। এদের উপরেই সংঘটিত হবে কিয়ামত (মহাপ্রলয়) (মুসলিম-২৯৩৭,তিরমিযী-২২৪০,৪০০১,আবূ দাউদ-৪৩২১,ইবনু মাজাহ-৪০৭৫,আহমাদ ১৭১৭৭) দাজ্জালের সাথে থাকবে পানি ও আগুন। বাস্তবে তার আগুনই হবে পানি আর পানিই হবে আগুন। (বুখারী-৩৪৫০-৩৪৫২,২০৭৭,মুসলিম-২৫৬০,নাসায়ী-২০৮০,ইবনু মাজাহ-২৪২০) দাজ্জাল মক্কা মদীনা ব্যতীত সব শহরেই প্রবেশ করবে, মক্কা ও মদীনার গিরিপথে ফিরিস্তারা পাহারা দেবেন, দাজ্জাল মদীনার নিকটস্থ বালুময় লোনা জমিতে আসবে, সেসময় মদীনা তিনবার কেঁপে উঠবে। (বুখারী-১৮৮১,৭১২৪,মুসলিম-২৯৪৩,তিরমিযী-২২৪২) দাজ্জালের সাথে রুটির পাহাড় ও পানির নহর থাকবে, (বুখারী-৭১২২,মুসলিম-২৯৩৯,ইবনু মাজাহ-৪০৭৩) দাজ্জালের একচোখ কানা হবে এবং তার কপালে কাফ-ফা-র (কাফের) লেখা থাকবে । (বুখারী-৭১৩১,৭৪০৮,মুসলিম-২৯৩০,তিরমিযী-২২৪০,আবূ দাউদ-৪৩১৬) দাজ্জাল সাথে নিয়ে আসবে জান্নাত জাহান্নামের মত কিছু। যাকে সে জান্নাত বলবে, বাস্তবে সেটাই জাহান্নাম হবে। (বুখারী-৩৩৩৮,মুসলিম-২৯৩৬) দাজ্জালের ডান চোখ কানা হবে যেন তা ভেসে ওঠা আঙুর। (বুখারী-১৩৫৫,২৬৩৮,৩০৫৫,মুসলিম-১৬৯,১৭১,২৯৩১,আহমাদ-৪৭২৯)

By Anonto Rajan

রবের প্রতি বিশ্বাস সবসময়...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *