দাজ্জাল কি আসলেই মানুষ নাকি অন্য কিছু

প্রশ্ন: দাজ্জাল আসলে কী? সে কি মানুষ? উত্তর: হ্যা। সে মানুষ। প্রশ্ন : সে যে মানুষ এটা কী হাদিসে আছে? উত্তর: হ্যা, সে কী ধরণের হবে তার পিতামাতা কী ধরণের হবে ইত্যাদি সব কিছু হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

দাজ্জাল একজন মানুষ কোন সভ্যতার বা দেশের নাম নয়। কেননা, রাসুল (সাঃ) এর হাদীস সমুহে দাজ্জাল নামক ব্যক্তির অনেক বৈশিষ্ট্য উল্লেখিত হয়েছে। সেগুলো দিয়ে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, সে একজন রক্তমাংসে গড়া আমাদের মতই মানব সন্তান। সেও মায়ের পেট থেকেই দুনিয়ায় এসেছে।

দাজ্জাল নিয়ে রাসুল (সাঃ) এর কয়েকটা হাদীসে চোখ বুলিয়ে নিই।

১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) মনে করতেন যে, ইবনে সাইয়্যাদ নামক ব্যক্তিটিই দাজ্জাল। (আবু দাউদ শরীফ)

উক্ত ইবনে সাইয়্যাদ ছিল একজন মানুষ। দাজ্জাল মানুষ না হলে তিনি কখনো এমনটি ধারণা করতেন না।

২. আরেকটা হাদীসে এসেছে-রাসুল (সাঃ) একদিন ফজর নামাজ আদায় করার পর সাহাবীদেরকে বললেন সবাই নিজ নিজ নামাজের স্থানে বসে থাক। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তোমরা কি জান আমি কেন তোমাদেরকে এখানে একত্র করেছি? তোমাদেরকে কোন কিছুর প্রতি উৎসাহ কিংবা কোন কিছু থেকে ভীতিপ্রদর্শনের জন্য একত্রিত করিনি। বরং, আমি তোমাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় জানানোর জন্য একত্রিত করেছি। আর তাহল-তামীম দারী ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং তার বিগত একটি সামুদ্রিক সফরের ঘটনা বর্ণনা করেছে, যা আমার পূর্বেকার ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করেছে।সে অন্যদের সাথে একটা সামুদ্রিক সফরে ছিল। সেখানে সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গ তাদেরকে নিয়ে খেলা করেছে। একমাস পর তারা একটা দ্বীপের কাছে এসে একটি জন্তুর দেখা পেল। তাকে জিজ্ঞাসা করল: কে তুমি? সে বলল: আমি পাহারাদার। সামনে ওই ঘরটার দিকে যান। সেখানে একজন লোক আছেন। তিনি আপনাদের কাছ থেকে কিছু তথ্য নেয়ার জন্য খুবই আগ্রহী। আমরা মনে করলাম হয়ত সে কোন শয়তান হবে। আমরা সেখানে গিয়ে বিশালদেহী একজন মানুষকে দেখলাম। এ রকম মানুষ কখনো আমরা দেখিনি। তার হাতগুলো ঘাড়ের সাথে বাঁধা। সে তাদেরকে বায়সান খেজুর বাগান, জুগার কুপ ও উম্মী নবী (মুহাম্মদ সা.) সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করল। তারপর, সে নিজের পরিচয় দিল। বলল: আমি দাজ্জাল। অচিরেই আমাকে বের হওয়ার অনুমতি দেয়া হবে। আমি সারা দুনিয়ায় ঘুরে বেড়াব মক্কা ও তাইবা ব্যতিত। রাসুল (সাঃ) বললেন: শুনে রাখ! এটাই (মদীনা) তাইবা। এখানে সে প্রবেশ করতে পারবে না। (মুসলিম, আবু দাউদ)

৩. রাসুল (সাঃ) বলেন:
يَمْكُثُ أَبُو الدَّجَّالِ وَأُمُّهُ ثَلَاثِينَ عَامًا لَا يُولَدُ لَهُمَا وَلَدٌ ثُمَّ يُولَدُ لَهُمَا غُلَامٌ أَعْوَرُ أَضَرُّ شَيْءٍ وَأَقَلُّهُ مَنْفَعَةً تَنَامُ عَيْنَاهُ وَلَا يَنَامُ قَلْبُهُ ثُمَّ نَعَتَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبَوَيْهِ فَقَالَ أَبُوهُ طِوَالٌ ضَرْبُ اللَّحْمِ كَأَنَّ أَنْفَهُ مِنْقَارٌ وَأُمُّهُ فِرْضَاخِيَّةٌ طَوِيلَةُ الْيَدَيْنِ

অর্থাৎ, দাজ্জালের পিতামাতা ত্রিশ বছর পর্যন্ত দাম্পত্যীবন অতিবাহিত করবে অথচ, তাদের কোন সন্তান হবে না। এরপর তাদের একটা কানা সন্তান জন্ম নেবে যার দিয়ে তাদের তেমন কোন উপকার হবে না এবং সে হবে অকর্মণ্য। তার দুই চোখ ঘুমাবে অথচ, অন্তর ঘুমাবে না। তারপর রাসুল (সাঃ) আমাদেরকে তার পিতামাতার গুণাবলী বর্ণনা করলেন। তিনি বললেন: তার পিতা হবে লম্বা, হালকা গোশত ওয়ালা বিশিষ্ট এবং তার মায়ের স্তনযুগল হবে লম্বা ও বৃহদাকার। (তিরমীজি শরীফ)

৪. বুখারী শরীফে এসেছে-
فَإِذَا رَجُلٌ أَحْمَرُ جَسِيمٌ جَعْدُ الرَّأْسِ أَعْوَرُ عَيْنِهِ الْيُمْنَى
অর্থাৎ, দাজ্জাল হচ্ছে লালচে বর্ণের ও স্থুলদেহ বিশিষ্ট, তার থাকবে উসকো-খুসকো চুল ও ডান চোখ কানা।(বুখারী শরীফ)

এ হাদীসগুলো থেকে স্পষ্টত: জানা যায় যে, দাজ্জাল মানুষের মধ্য থেকেই হবে। সে মানুষের পেট থেকেই আমাদের মতই স্বাভাবিক জন্ম নিয়েছে। যদি রাসুল (সাঃ) কোন সভ্যতাকে দাজ্জাল বলে অভিহিত করতেন তাহলে, নিশ্চয়ই তিনি তার পিতামাতার বৈশিষ্ট্য কিংবা তামীম দারী (রাঃ) এর প্রত্যক্ষ করা দাজ্জালকে সত্যায়ন করতেন না।

By Anonto Rajan

রবের প্রতি বিশ্বাস সবসময়...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *