একটি পবিত্র প্রেমের অপেক্ষায়

বলতো বাবা, বাংলাদেশে মোট সরকারী প্রাইমারী স্কুল কতটি?

জানিনা, আংকেল।

বলো কী! এই সাধারণ প্রশ্নের উত্তর তোমার জানা নেই!

আচ্ছা বলো, প্রতিবছর স্কুলের জন্য বাংলাদেশ সরকার কত টাকা ব্যয় করেন?

দুঃখিত! জানিনা।

আরে! তুমি তো দেখছি কিছুই জানোনা! তোমার সাথে মেয়ে বিয়ে দিলে তো সর্বনাশ হয়ে যাবে

এতক্ষণ মধ্যবয়সী একজন সরকারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিয়ের ইন্টারভিউ নিচ্ছিলেন কওমী পাশ করা এক যুবকের। যুবক তো হতবাক! তবে বিনোদিত! মীযান থেকে নিয়ে সহীহ বুখারী পর্যন্ত দরসে নিযামীতে থাকা সমস্ত কিতাবের পাতাগুলি মনে মনে ওল্টানোর পর যখন সে উক্ত প্রশ্নাবলীর সাথে ‘বিয়ে বা সংসার’ এর কোনো মিল খুঁজে পেলো না, তখন এক চা চামচ মেজায খারাপের সাথে বলে উঠলো, “আংকেল, আপনার প্রায় অর্ধেক জীবন প্রাইমারী স্কুলে কেটেছে – এর মানে এই নয় যে, আপনার মেয়েকে বিয়ে করতে হলে ‘প্রাইমারী বিষয়ক সকল প্রশ্নের সমাধান ‘ জাতীয় গাইড বই মুখস্থ করতে হবে। একজন মানুষের সাথে পনেরো বিশ মিনিট সাধারণ কথা বলে যে মেধা যাচাই করতে পারেনা, আসলে তার মেধাই প্রশ্নবিদ্ধ। যুবক আবার বলা শুরু করলো, আংকেল, গাধা টাইপের যে ছেলেটি এসব সাধারণ জ্ঞানের গাইড মুখস্থ করেছে, আপনি তার হাতে নিজের মেয়েকে তুলে দিবেন, নাকি যে ছেলে পরিবেশ, পরিস্থিতি বুঝে কথা বলতে পারে, আপনার মেয়ের রাগ, অভিমান, বলা কথা, না বলা কথা সব রিয়েকশন বুঝতে পারবে- তার হাতে তুলে দিবেন? ” . যুবক থামলো। আংকেল চিন্তায় ডুবে গেলেন। কিছুক্ষণ পর বললেন, এখন তুমি যাও, বাবা! আমরা পরামর্শ করে তোমাকে জানাবো।

রাতের খাবার শেষ করে বিছানায় আরাম করার সময় আংকেল আন্টিকে পুরো ব্যাপারটা শোনালেন। আন্টি বললেন, অসাধারণ ছেলে তো! আংকেল ও তার সাথে যোগ করে বললেন, এমন মেধাবী ও সাহসী ছেলে আমি কখনো দেখিনি।

পরেরদিন আন্টির কাছে উপস্থিত হবুবউ ও তার কয়েকজন কাজিনরা। আন্টি যুবককে কল করলেন। কল রিসিভ করা হলো। আন্টি লাউডস্পিকার অন করে বললেন, কেমন আছো, বাবা? আমি ওর মা বলছি।

আসসালামু আলাইকুম, আন্টি! কেমন আছেন? -আমাকে আন্টি ডাকছো কেনো, বাবা? আম্মা বলে ডাকা যায়না! (এরকম ওভার ইমোশন দেখে যুবক বিস্মিত হলো! নিজেকে সামলে নিয়ে বললো,) আন্টি, আপনি মুরব্বী মানুষ। অবশ্যই আপনার কথার মূল্যায়ন করা উচিত। কিন্তু একটু ভাবুন, মিষ্টি এই সম্পর্কটা স্থাপিত হয়ে যাওয়ার পর যখন সত্যিকার অর্থেই আপনি আমার মা হয়ে যাবেন, তখন আপনার মেয়ে এবং দুই পরিবারের সম্পর্ক কে অনুভব করে আবেগজড়িত কন্ঠে আপনাকে ‘আম্মা’ বলে ডাকলে আপনি যে অফুরন্ত খুশী হবেন, এখন ‘আম্মা’ ডেকে তখনকার খুশীর পরিমাণ আমি কমাতে চাচ্ছি না। . একথা শুনতেই কাজিনদের কণ্ঠ শোনা গেলো, “অসাধারণ উত্তর! ভাইয়া কিন্তু সত্যিই অসাধারণ! ” যুবক তখন বললো, আপুরা, আপনারা অসাধারণ বললে তো লাভ নেই! যখন ‘তিনি’ বলবেন তখনই সার্থকতা।

কে এই মানুষ! এমন কেনো সে! ইতিপূর্বে কোনো মানুষকে তো এতো ভালোলাগেনি! মনে দাগ কাটার মতো কথা বলে! ‘ কথাগুলো আনমনে ভাবছিলো ‘হবুবউ’। হঠাৎ কী যেনো মনে করে আম্মুর ফোন থেকে কল করলো,

আসসালামু আলাইকুম! কেমন আছেন? -ওয়ালাইকুমুস সালাম! আলহামদুলিল্লাহ্‌! ভালো আছি। কে আপনি? আপনি না অনেক মেধাবী! বলুন তো আমি কে? (যুবক সহজেই বুঝতে পারলো) আপনি আমার সেই শত্রু, যে আমার মনের কোণায় দীর্ঘদিন থেকে সযত্নে লালন করা “পবিত্র প্রেম” কে কলুষিত করতে চাচ্ছেন। — (হবুবউ বিরাট টাস্কি খেলো! চোখগুলো অশ্রুসজল হলো! হৃদয়ের গহীনে অল্পসময়ে অনেকখানি জায়গা দেওয়া মানুষটা যদি এমন কথা বলে, তাহলে পৃথিবীটা অন্ধকার দেখায়।) আপনি আগে কেনো বলেননি, আপনার অন্য কারো সাথে প্রেম আছে?! একটা মেয়ের মন নিয়ে এভাবে খেলার কী মানে?! (কান্না!) এখন বুঝলাম, মেয়েরা ছেলেদের কেনো ঘৃণা করে!

(হবুবউ কে থামিয়ে দিয়ে যুবক বললো) রাসূল সা. যথার্থই বলেছেন, “মেয়েদের বুদ্ধি কম”। আরে পাগলী, জীবনের ২৪ টি বসন্ত ধরে অপেক্ষা করছি ‘একটি পবিত্র প্রেমের’। বিয়ের আগে কি ‘পবিত্র প্রেম’ হয়, বলো? এখন তোমার সাথে আমার কথা বলা পবিত্র না। তাই বললাম, তুমি সেই শত্রু, যে এই ‘পবিত্র প্রেম’ কে কলুষিত করতে চাচ্ছো। — (এরপর হবুবউ বললো) আজ আমিও বলতে বাধ্য হলাম, “আপনি সত্যিই অসাধারণ! ”

By Anonto Rajan

রবের প্রতি বিশ্বাস সবসময়...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *