Salat Namaz

অনেক সময় ময়লা-আবর্জনা আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। সেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। কেননা এগুলো পরিবেশ দূষিত করে। যার ফলে সমাজের পরতে পরতে রোগব্যাধি ও অসুস্থতা বেড়ে যায়। যা আমাদের কাম্য নয়।

কারণ সুস্থতা সব সুখের মূল। শরীর সুস্থ থাকা, ভালো থাকা যে কোনো মানুষের অন্যতম কামনা। একান্ত মনের প্রত্যাশা। কিন্তু শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য নিজেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্নতা দূর করতে হবে। ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে হবে। কাপড়-চোপড় পাকসাফ করে রাখতে হবে।

ঘরদোর ধুয়ে-মুছে পরিপাটি করে রাখতে হবে। কেননা ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব অনেক। কারণ মানুষের সুস্থ থাকা অনেকটা নির্ভর করে পরিপার্শ্বিক স্বাস্থ্যকর অবস্থার ওপরে। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন হলে, বসবাসের উপযোগী হলে মানুষের শরীর-মন অনেকটা এমনিতেই ভালো থাকে। মহান আল্লাহ মানুষের সুস্থ থাকার ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও বলেছেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইমানের অর্ধেক’। মুসলিম।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে কোরআন- হাদিসে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তির পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে ঘরের পরিচ্ছন্নতা ও চারদিকের পরিচ্ছন্নতা, রাস্তাঘাটের পরিচ্ছন্নতাসহ এমন কোনো দিক নেই, যা সম্পর্কে কোরআন-হাদিসে আলোচিত হয়নি। এই যে পরিচ্ছন্নতার ওপর ইসলাম এত গুরুত্ব আরোপ করেছে, এর কারণ কী? এর মূল কারণ, আমরা যদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকি, তাহলে সুস্থ থাকব, আমাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

মদিনার নিকটবর্তী কুবার লোকজন খুবই পরিচ্ছন্ন-জীবন যাপন করত। তাদের ভূয়সী প্রশংসা করে কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘সেখানে এমন লোকেরা রয়েছে, যারা ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করতে পছন্দ করে। আর আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের পছন্দ করেন।’ সুরা তওবা। আমাদের শরীরে বেশির ভাগ রোগ-ব্যাধি দানা বাঁধে একমাত্র অপরিচ্ছন্নতার কারণে।

অনেকে আছে নিয়মিত গোসল করে না, ঠিকমতো দাঁত ব্রাশ করে না। এর ফলে কী হয়- এতে শরীরে আস্তে আস্তে বিভিন্ন প্রকার ছোট ছোট রোগ দেখা দেয়। আর এই ছোট ছোট রোগই একদিন বড় আকার ধারণ করে। তাই কোরআনে মানুষকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদের।’ সুরা বাকারা।

সুস্বাস্থ্য মূল্যবান সম্পদ। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ইবাদত-বন্দেগি, ঘর-সংসার সবকিছুই করতে হবে এবং স্বাস্থ্যের প্রতিও খেয়াল রাখতে হবে। কারণ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের অসুস্থ হওয়ার আগে স্বাস্থ্যকে সৎ কাজে ব্যবহার করতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্যকে কাজে লাগাও, স্বাস্থ্যকে রক্ষা কর।

অন্য হাদিসে এসেছে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক সাহাবিকে যিনি সারা দিন রোজা রাখতেন, সারা রাত নফল নামাজ পড়তেন, তাকে ডেকে বললেন, হে আমার সাহাবি! জেনে রাখো, ‘নিশ্চয় তোমার ওপর তোমার শরীরের হক রয়েছে।’ বুখারি।

লেখক : মুহাদ্দিস, খাদিমুল ইসলাম মাদ্রাসা, ঢাকা

By Anonto Rajan

রবের প্রতি বিশ্বাস সবসময়...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *